চলচ্চিত্রের নতুন প্রজন্ম তৈরি করছি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল


শুরু হলো ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’। চিলড্রেন’স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে এই উৎসব। সংগঠনটির সভাপতি মুহম্মদ জাফর ইকবাল। উৎসব নিয়ে প্রথম আলোকে দেয়া সাক্ষাৎকার।

> আপনি এখন ঢাকায়?

>> হ্যাঁ, আজ (শনিবার) বিকেলে ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’ উদ্বোধন হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে থাকব।

> এই উৎসব নিয়ে ছোটদের আগ্রহ কেমন মনে হচ্ছে?

>> এই উৎসবের জন্য শিশু-কিশোরেরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে থাকে। আমরা তাদের দেখানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভালো ভালো চলচ্চিত্র নিয়ে আসি। আর ছোটরা কিন্তু ভালো যেকোনো কিছু গ্রহণ করে। আমরা এই উৎসবে ছোটদের সেসব ভালো চলচ্চিত্র দেখাব।

> ছোটদের কিন্তু টিভির প্রতি একটা আকর্ষণ রয়েছে।

>> টিভি আর চলচ্চিত্র কিন্তু এক জিনিস নয়। চলচ্চিত্র অনেক বড় মাধ্যম। চলচ্চিত্রের আলাদা একটা জগৎ আছে। এটা তাদের বোঝাতে হবে। আমি বলব, এই উৎসব তাদের বিশ্বের ভালো ভালো সব চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।

টিভিতে তো এখন অসংখ্য অনুষ্ঠান তৈরি হচ্ছে… কিন্তু তার মধ্যে ছোটদের জন্য কয়টা হচ্ছে? এই যে প্রতিবছর ঈদের সময় টিভি চ্যানেলগুলো টানা কয়েক দিন নানা ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করে, তার মধ্যে ছোটদের জন্য তেমন কিছুই থাকে না। ছোটরা সব সময়ই অবহেলিত।

> ছোটদের জন্য চলচ্চিত্র তৈরির ব্যাপারে আমাদের নির্মাতারা কতটা আগ্রহী?

>> আগ্রহটা হবে কীভাবে। কাজলের দিনরাত্রি ছবিটি তৈরি করেছেন সজল খালেদ। ওর সঙ্গে কথা হলো। ছবিটি তৈরির জন্য সরকারের কাছ থেকে ও যে অনুদান পেয়েছে, এরপর ছবির কাজ শেষ করার জন্য তাঁর গাড়ি আর স্ত্রীর গহনা বিক্রি করতে হয়েছে। এভাবে সম্ভব? শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে আরও ভালোভাবে সহযোগিতা করার জন্য আমি সরকারকে অনুরোধ করছি।

> আপনার দৃষ্টিতে এই উৎসব আয়োজন কতটা ফলপ্রসূ?

>> ছোটদের জন্য এই ‘আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুধু বিনোদনের জন্য এই উৎসব আয়োজন করছি না, আমরা একদিকে যেমন তাদের ভালো চলচ্চিত্র দেখার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলছি, তেমনি তাদের চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করছি। এই উৎসবে ছোটদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। তাদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আমরা চলচ্চিত্রের নতুন একটি প্রজন্ম তৈরি করছি। ৮-১০ বছর পর আমরা যে নির্মাতাদের দেখব, আশা করছি তাদের বেশির ভাগই হবে এই উৎসবে অংশ নেওয়া ছেলেমেয়েরা।

এডমিন নোট: লেখাটি প্রথম আলো‘তে ২০-০১-২০১৩ তারিখে প্রকাশিত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s