একটি লঙ্গরখানার কাহিনী | মুহম্মদ জাফর ইকবাল


ঝরঝর করে বৃষ্টি হচ্ছে, ছোট বাচ্চাগুলো ভিজে চুপসে গেছে। কিন্তু সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই, মনে হয় তাদের আনন্দই হচ্ছে। আমি যখন তাদের বয়সী ছিলাম, তখন বৃষ্টিতে ভিজলে আমারও ও রকম আনন্দ হতো। তাদের সবার হাতেই একটা গামলা বা ডেকচি, কেউ কেউ সেটা মাথায় দিয়েছে−বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য নয়, শিশুসুলভ খেলার ছলে। আমার কাছে একটা ক্যামেরা ছিল, আমি যখন তাদের ছবি তুলতে গেছি সবাই আনন্দে দাঁত বের করে হেসে দিল। আজকালকার ডিজিটাল ক্যামেরা অনেক ‘হাইফাই’, ছবি তোলা-মাত্রই সেটা দেখা যায়। আমি তাই ছবিগুলো বাচ্চাদের দেখালাম। তারা ছবির মাঝে নিজেকে খুঁজে বের করে তাদের মুখের হাসিকে আরও বিস্তৃত করে ফেলল। পেছন থেকে আরও কিছু বাচ্চা তাদের ছবি তোলার জন্য আমাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। আমি কাছে এগিয়ে যেতেই বাচ্চাগুলো আনন্দে দাঁত বের করে হাসতে থাকে। তখন পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বড় মানুষ তাদের বাজখাঁই গলায় ধমক দিলেন−‘খবরদার হাসবি না।’
বাচ্চাগুলো হাসি বন্ধ করল, কয়েক মুহুর্তের জন্যই, তারপর আবার তারা হাসিমুখে তাকাল। তারা আসলেই জানে না এটা একটা লঙ্গরখানার লাইন, এখানে দাঁড়িয়ে হাসতে হয় না। খুলনার খালিশপুরে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলের ছাঁটাই হওয়া অভুক্ত শ্রমিকদের জন্য এটা খোলা হয়েছে। খাবারের জন্য গামলা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা খুব অবমাননাকর, মানসম্মান খুইয়ে যারা এসে দাঁড়িয়েছে তাদের খুব লজ্জা হচ্ছে, কিন্তু তারপরও এসেছে। পেটে ক্ষুধা থাকলে মানসম্মান, লাজ-লজ্জার কথা মনে থাকে না।


খালিশপুরে পাটকলের শ্রমিকদের জন্য এটার আয়োজন করেছিল জাতীয় ত্রাণ কমিটি। বিচারপতি (অব.) মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী তার সভাপতি, আমি একজন সদস্য। লঙ্গরখানা খোলার ব্যাপারটা দেখার জন্য আমি সিলেট থেকে এসে খুলনার খালিশপুরে গেছি। খবরের কাগজ থেকে আমরা জানি, সেখানে পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে আছে। শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেক শ্রমিক বহু দিন থেকে বেতন পান না, তাঁদের প্রাপ্য মজুরি পান না। হাজার হাজার মানুষ একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে আছেন। আমি আগেও লক্ষ করেছি খবরের কাগজের রিপোর্ট পড়ে তথ্যটুকু জানা যায়, পরিসংখ্যানগুলো জানা যায়, কিন্তু তার মানবিক বেদনাটুকু চোখে পড়ে না। নিজের চোখে দেখলে হঠাৎ পুরো হাহাকারটুকু দেখা যায়, বুকের ভেতর থেকে আসা দীর্ঘশ্বাসটুকু শোনা যায়।
আমরা ঢাকা থেকে ভালো কাপড়-জামা পরে এসেছি, তাই আমাদের দেখে মানুষজন ভিড় করে এল। কেউ অনেক দিন আগে ছাঁটাইয়ের চিঠি পেয়েছেন, কেউ পেয়েছেন সবেমাত্র। অনেকে বেতন পান না, অনেকে তাঁদের প্রাপ্য পাচ্ছেন না। কারও বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করে রেখেছে−এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। কারও ছেলেমেয়ে এসএসসি পাস করেছে, কলেজে ভর্তি করার পয়সা নেই। তাঁদের সবার দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা শুনতে শুনতে আমি হুঁ-হাঁ করে মাথা নাড়ি। আমার নিজেকে তখন একটা প্রতারক বলে মনে হয়। যাঁরা অভিযোগগুলো করছেন তাঁদের অনেকেরই ধারণা, যেহেতু ঢাকা থেকে এসেছি, আমরা নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, আমাদের হাতে আছে আলাদীনের চেরাগ, সেটা দিয়ে তাঁদের সব দুঃখ-কষ্ট-বঞ্চনা-বেদনা দুর করে দেব। আমরা যারা গিয়েছি তারা শুধু জানি আসলে তাঁদের দুঃখের কথাগুলো জেনে সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

২.
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের বইয়ে লেখা ছিল পাট হচ্ছে সোনালি আঁশ, আমরা আরও জানতাম আদমজী জুটমিল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাটকল। তারপর কীভাবে কীভাবে জানি হঠাৎ একদিন দেখতে পেলাম আদমজী জুটমিল চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলো। সবচেয়ে বেশি আপত্তি করার কথা ছিল শ্রমিকদের, কিন্তু সরকার খুব ভাবনা-চিন্তা করে শ্রমিকনেতাদের কিনে রেখেছে, তাই কেউ আপত্তি করল না। শুধু খবরের কাগজে একটা ছবি দেখলাম, একজন শ্রমিকের কিশোরী মেয়ে খবরটা শুনে অজ্ঞান হয়ে গেছে। সে বুঝতে পেরেছিল তার লেখাপড়া ও পুরো জীবন শেষ হয়ে গেছে। আমার মাঝেমধ্যে জানতে ইচ্ছে করে, সেই মেয়েটি এখন কোথায় আছে, কেমন আছে।
বৃহস্পতিবার খবরের কাগজে দেখলাম আরও চারটি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হবে, ১৪ হাজার শ্রমিককে চাকরি হারাতে হবে। উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলনটি আমি নিজে দেখিনি, শুনেছি। তিনি বেশ কয়েকবার জোর দিয়ে বলেছেন যে চারটি পাটকলকে কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব নয়, সেগুলো বন্ধ করে দিতেই হবে। মাননীয় উপদেষ্টা নিশ্চয়ই পাটশিল্প বিশেষজ্ঞ নন, কাজেই সাংবাদিকদের সামনে খুব জোর দিয়ে যখন এই নিষ্ঠুর কথাগুলো বলতে হয় তাঁকে তখন অন্য অনেক মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেই মানুষগুলো কারা আমার জানার কৌতুহল হয়। কারণ সব সময়েই দেখতে পাই এই সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে মানুষের দুঃখ-কষ্ট কখনো আলোচ্য বিষয় হিসেবে আসে না। (এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী অবলীলায় হাজার হাজার দরিদ্র মানুষের দোকানপাট উচ্ছেদ করে তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছিল, মনে আছে?) আমরা খবরের কাগজে দেখেছি পাটশিল্প বিষয়ে একটা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স পুরো বিষয়টি বিবেচনা করে একটা সিদ্ধান্ত দিলে, সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে পাটকল বন্ধ করে দেওয়া-না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে কি ভালো হতো না?
আমি পাটবিশেষজ্ঞ নই, পত্রিকায় পাটবিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার চোখে পড়ে, কিন্তু যাঁরা দেশের পাটশিল্পকে ধ্বংস করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে বিশেষজ্ঞ হয়েছেন, তাঁদের বক্তব্য পড়তে কেন জানি উৎসাহ হয় না। একেবারে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কিছু তথ্য জানি। সেগুলো এ রকম: পৃথিবীতে পাট হঠাৎ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা শুধু পাটের দড়ি আর ছালা দেখেছি, কিন্তু এখন যে পাট দিয়ে গাড়ির ড্যাশবোর্ড থেকে শুরু করে তার ভেতরের আস্তরণ পর্যন্ত তৈরি হয়, সেটা কি আমরা জানি? পৃথিবীতে খাদ্যশস্য রাখার জন্য যে পাটের তৈরি বস্তার ওপর কিছু নেই, সেটা কি আমরা জানি? বাংলাদেশের পাট যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পাট, সেটাও কি আমরা জানি? ছেলেবেলায় যে পাটকে আমরা সোনালি আঁশ বলতাম, সেটা তো আসলেই সোনালি আঁশ।
অথচ সেই পাটকে আমরা কাঁচামাল হিসেবে বিক্রি করে দিই। আমাদের দেশের পাটকল একটা একটা করে বন্ধ হচ্ছে এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পাশের দেশ ভারতে একটা একটা করে পাটকল তৈরি হচ্ছে। আমরা আমাদের পাট ভারতে পাঠাই তাদের পাটকলে প্রক্রিয়া করার জন্য, এর রহস্যটা কী?
যাঁরা অর্থনীতিবিদ, তাঁরা মাঝেমধ্যে আমাদের বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। বিশ্বব্যাংক ভারতের পাটশিল্পকে দাঁড় করানোর জন্য অনেক টাকাপয়সা খরচ করেছে, কাজেই তারা মরণপণ করে তাদের পাটশিল্পকে দাঁড় করিয়েছে। কাজটা সহজ হয় যদি আমাদের পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়−তাই একটা একটা করে পাটকল বন্ধ হচ্ছে। (এবারে অবশ্য একটা করে নয়, আরও দ্রুত গতিতে−চারটা করে।)
আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো যোগাযোগ নেই। নির্বাচিত সরকার যখন এ ধরনের একটা সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা অন্তত যুক্তির খাতিরে বলতে পারে তারা দেশের জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একা একা নিয়ে ফেলে?
দেশের মানুষজন আরও বিরক্ত হয় যখন আবিষ্ককার করে তাদের আসল যে দায়িত্ব−নির্বাচন করার জন্য একটা ভোটার তালিকা তৈরি করা−সেই ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ নেই। তাদের পুরো শক্তিটুকু ব্যয় করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের জন্য। প্রথম প্রথম আমরাও খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম, এখন কেন জানি উৎসাহ হারিয়ে ফেলছি। এখন মোটামুটি পরিষ্ককার যে সংস্কার অর্থ মাইনাস টু (এই মাইনাস টু কথাটার মানে কী, সেটা এখন একটা বাচ্চা ছেলেও জানে!) এবং একজন রাজনীতিবিদ যদি ভয়ঙ্কর দুর্নীতিপরায়ণও হন, তিনি যদি মাইনাস টু জেহাদে অংশ নেন, তবে তাঁর কেশাগ্র স্পর্শ করা হবে না!
তবে আমি বস্ত্র ও পাটশিল্প উপদেষ্টাকে অবশ্যই একটা বিষয় নিয়ে সাধুবাদ দিতে চাই। তিনি বলেছেন এই বছর পাট মৌসুমেই তিনি প্রায় ২০০ কোটি টাকার পাট কেনার ব্যবস্থা করবেন। লঙ্গরখানা খোলার জন্য খালিশপুর গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে আমি একটি জিনিস জেনে এসেছি। সরকার পাট কেনার জন্য টাকাটা সময়মতো ছাড় দেয় না বলে অযথা অনেক বেশি মূল্যে পরে ফড়িয়াদের কাছ থেকে পাট কিনতে হয় এবং আমাদের দেশের পাটশিল্প ধ্বংস হওয়ার এটা হচ্ছে অন্যতম একটা কারণ।
আমরা কেউই অস্বীকার করব না যে এই দেশটি আসলে ঠিকমতো চলছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে পাটকল−সব জায়গায় সমস্যা এবং সেই সমস্যাগুলো ছোটখাটো সমস্যা নয়, অনেক বড় সমস্যা। দেশের মানুষ একেবারে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল বলে একটা বড় পরিবর্তনের জন্য খুব আশা করে আছে। এ সরকারের খুব বড় একটা সুযোগ ছিল, তারা সেই সুযোগটা নেবে বলে দেশের মানুষ কিন্তু খুব আশা করে আছে। মাইনাস টু ফর্মুলার মতো একেবারে হাস্যকর ছেলেমানুষী কিছু কাজকর্মে পুরো শক্তি ব্যয় করে তারা কিন্তু সেই সুযোগটা নষ্ট করছে। এই সুযোগটা নষ্ট হলে আবার কবে আমরা এমন একটা সুযোগ পাব?

৩.
আমরা যখন খালিশপুরে যাই তখনই একটা অত্যন্ত বিচিত্র ব্যাপার টের পেতে শুরু করলাম। পুলিশ, এনএসআই, ডিজিএফআই−সবাই কেমন জানি শক্ত হয়ে গেছে। একটা পুরোপুরি মানবিক ব্যাপারের মধ্যে তারা কেমন জানি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেতে শুরু করেছে। সবাইকে জানিয়ে সবার অনুমতি নিয়ে এই পরিকল্পনাটা করা হয়েছে। খবরের কাগজে খবর পড়ে একটা বিপর্যয়কে বোঝা যায় না, একটা বিপর্যয়কে বোঝার জন্য মানবিক চোখে সেটা দেখতে হয়। আমরা সেই মানবিক কাজটুকু করার জন্য গিয়েছিলাম।
মাঝখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বসেছি, সেটা ছিল অন্য রকম একটা সংবাদ সম্মেলন। তাঁরা ক্রুদ্ধ গলায় বললেন, ‘আপনারা তিন থেকে পাঁচ দিনের জন্য এই লঙ্গরখানা খুলেছেন। পাঁচ দিন পর কী হবে?’ আমি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে দেখেছি, কিন্তু কখনো ক্রুদ্ধ গলায় জবাবদিহি চাইতে দেখিনি! আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমরা এই বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের সমাধান করতে পারব না। কিন্তু এই মানবিক বিপর্যয়ের কথা তো দেশের মানুষের কাছে বলতে পারব! এর বেশি আমরা কী করতে পারি?
আমরা যখন খালিশপুর থেকে চলে আসি তখন সেখানে একটা বিচিত্র ব্যাপার ঘটতে থাকে। যাঁরা স্থানীয় শ্রমিক এই লঙ্গরখানার জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের কয়েকজনের কোমরে দড়ি বেঁধে পুলিশ শ্রমিক এলাকায় ঘুরিয়ে এনে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বসিয়ে দিল। যেখানে রান্নার আয়োজন সেখানে গিয়ে সবাইকে তাড়িয়ে দিল। অনেক চিন্তা করে আমার মনে হলো, সরকারের নিশ্চয়ই ধারণা হয়েছে এই লঙ্গরখানা খোলায় তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। (মনে আছে, ভাবমূর্তি? জোট সরকার তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে কত দুশ্চিন্তায় ছিল? জেএমবি-জামায়াত নিয়ে একটা কথা বললেই তারা হইহই করে বলত, ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!) এখন দেখি সেই একই ব্যাপার, অভুক্ত শ্রমিকদের এক বেলা খিচুড়ি খাওয়ালে যদি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সরকার কেন সেই অভুক্ত মানুষের দায়িত্ব নেয় না? এই মানুষগুলো কেন অভুক্ত রয়েছে? কে তাদের অভুক্ত রেখেছে? পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে কি অভুক্ত মানুষকে শান্ত রাখা যায়?

৪.
খালিশপুরের পুরো শ্রমিক এলাকাটা কেমন যেন ভুতড়ে, সারি সারি দোকানপাট বন্ধ, বিবর্ণ বসতি। মানুষগুলোর মুখ ম্লান চিন্তাক্লিষ্ট। যখন চলে আসি তখন একজন বললেন, ‘আপনি কি জানেন, গত কিছুদিনে এই শ্রমিকদের পরিবারের অনেক মেয়ে ডিসি অফিসে গিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করে প্রস্টিটিউট (দেহপসারণী) হয়েছে!’ (কোন শব্দটি লেখা শোভন আমি জানি না, তাই যে শব্দটা শুনেছি হুবহু সেই শব্দটাই লিখলাম)।
ডিসি অফিসে গিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করে প্রস্টিটিউট (দেহপসারণী) হওয়া যায়, আমি সেটাও জানতাম না। আমার খুব সৌভাগ্য সে রকম কোনো এটি মেয়ের সঙ্গে আমার সেখানে দেখা হয়নি। সেই মেয়েটি আমার চোখের দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেনি−‘আপনারা আমার জন্য কী করেছেন?’
আমি জানি, আমাকে মাথা নিচু করে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে হতো।
অন্য সবার কথা থাক, শুধু ওই মেয়েগুলোর কথা ভেবে এই দেশের মানুষ কি তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে না?

এডমিন নোট: লেখাটি প্রজন্ম ফোরাম থেকে সংগৃহীত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s